এই লেখাটি লিখতে বসার মুহূর্তে বারবার চোখের কোণ ভিজে উঠছে; বুকের গভীরে জমে আছে এক অবর্ণনীয় হাহাকার, এক অতৃপ্ত তৃষ্ণার মতো দগ্ধ জ্বালা। সেই জ্বলন্ত অনুভূতিকে বুকে ধারণ করেই আজ টাইপিং করতে চলেছি ইতিহাসের এক নির্মম, নিষ্ঠুর সত্যকে তুলে ধরতে। যে ইতিহাস কোটি কোটি মুসলিম হৃদয়কে আজও অশ্রুসিক্ত করে, যে বেদনা সময়ের সীমা অতিক্রম করেও নির্বাক আর্তনাদ হয়ে ভেসে বেড়ায়। শতাব্দীর পর শতাব্দী পেরিয়ে গেলেও সেই নিষ্ঠুর স্মৃতি যেন এখনও আমাকে গ্রাস করে নেয়; মনে হয়, অনন্ত যন্ত্রণার এক অতল গহ্বরে আমি নিক্ষিপ্ত হচ্ছি, যে গহ্বরের কোনো শেষ প্রান্ত নেই, কোনো অবসান নেই। কী সেই ভারাক্রান্ত ইতিহাস, যা আজও আত্মাকে ভারী করে তোলে? কেন এই অসীম যাতনা? মুসলিম উম্মাহর কোন বিচ্ছেদ, কোন বেদনাবিধুর অধ্যায় আজ হৃদয়কে এমন সর্বশান্ত করে তুলেছে? আসুন, আমরা প্রবেশ করি ইসলামের ইতিহাসের সেই অন্ধকারে যেখানে আলো নিভে গিয়েছিল, আর রয়ে গিয়েছিল কেবল রক্ত, অশ্রু ও নিঃশব্দ আর্তনাদ।
লরেন্স অব অ্যারাবিয়া বা টি. ই. লরেন্সের ইতিহাস ছিল একটি জাতির বিশ্বাসের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা এবং একটি উসমানীয় তথা অটোম্যান সাম্রাজ্যকে মানচিত্র থেকে মুছে দেওয়ার সুপরিকল্পিত ব্রিটিশ ব্লুপ্রিন্ট।
লরেন্সের এই 'ডার্ক হিস্ট্রি' বা অন্ধকার ইতিহাসের গভীরে প্রবেশ করলে দেখা যায়, তিনি কেবল একজন ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তাই ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন অত্যন্ত ধূর্ত একজন মনস্তাত্ত্বিক যোদ্ধা। অক্সফোর্ডে প্রত্নতত্ত্ব নিয়ে পড়াশোনা করার সময় থেকেই তাঁর মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক ও কৌশলগত দুর্বলতাগুলো খুঁজে বের করা। ১৯১৬ সালে যখন আরব বিদ্রোহ শুরু হয়, তখন লরেন্সকে পাঠানো হয়েছিল মক্কার শরিফ হুসাইনের ছেলেদের পরামর্শদাতা হিসেবে। কিন্তু তাঁর প্রকৃত মিশন ছিল আরবদের মনে এই ধারণা গেঁথে দেওয়া যে, অটোম্যানরা অর্থাৎ তুর্কিরা তাদের শত্রু এবং ব্রিটিশরা তাদের পরম বন্ধু। তিনি অত্যন্ত সচেতনভাবে ইসলামের ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্যের ধারণার পরিবর্তে সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ, ধর্মীয় ভুলভ্রান্তির জেরে এক মুসলিম গোত্রের সাথে অন্যদের দ্বন্দ্ববৃদ্ধিকরণ ও বংশীয় শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই উসকে দিয়েছিলেন, যার ফলে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে চলে আসা মুসলিম সংহতি, ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য ঘরের মতো ভেঙে পড়ে।
টমাস এডওয়ার্ড লরেন্সকে যখন কায়রোর ব্রিটিশ ‘আরব ব্যুরো’ থেকে মরুভূমিতে পাঠানো হয়, তখন তাঁর পকেটে ছিল ব্রিটিশ স্বর্ণমুদ্রা আর মাথায় ছিল অটোমান খিলাফতকে খণ্ডবিখণ্ড করার সুদূরপ্রসারী নকশা। লরেন্সের এই মিশনের মূল ভিত্তি ছিল আরবদেরকে বিভক্তিকরণের। তিনি জানতেন, আরবরা বংশপরম্পরায় বীর এবং ধর্মীয়ভাবে আবেগপ্রবণ। তাই তিনি আরবের প্রতিটি গোত্রের ভেতরে গিয়ে অটোম্যানদের বিরুদ্ধে এমন এক ঘৃণা রোপণ করেন, যা কয়েক শতাব্দীর মুসলিম ভ্রাতৃত্বকে নিমেষেই বিষাক্ত করে তোলে। তিনি যখন মক্কার শরিফ হুসাইনের শিবিরে পা রাখেন, তখন তাঁর লক্ষ্য ছিল শরিফকে এটা বিশ্বাস করানো যে ব্রিটিশদের সহায়তায় তিনি হবেন সমগ্র আরব জাহানের একমাত্র খলিফা। লরেন্স তাঁর ব্যক্তিগত নথিতে স্বীকার করেছেন যে, এই প্রতিশ্রুতি ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং এটি দেওয়া হয়েছিল কেবল আরবদের রক্তকে ব্রিটিশ স্বার্থে সস্তায় ব্যবহার করার জন্য।
লরেন্সের এই অন্ধকার যাত্রার সবচেয়ে বড় সাক্ষী তাঁর নিজের লেখা বই 'সেভেন পিলার্স অব উইসডম' (Seven Pillars of Wisdom)। এই বইটির ছত্রে ছত্রে তাঁর ষড়যন্ত্রের স্বীকারোক্তি পাওয়া যায়। বইটির মুখবন্ধে এবং বিভিন্ন অধ্যায়ে তিনি অত্যন্ত দম্ভের সাথে লিখেছেন কীভাবে তিনি আরবদের সাথে প্রতারণা করেছেন। তাঁর একটি কুখ্যাত উক্তি ছিল এমন:
“আমি আরবদেরকে স্বাধীনতার যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম, তা ছিল কেবল তাদের দিয়ে আমাদের যুদ্ধটা করিয়ে নেওয়ার একটি হাতিয়ার। আমি জানতাম আমরা তাদের দেওয়া কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখব না। যদি আমি একজন সৎ মানুষ হতাম, তবে আমি তাদের ঘরে ফিরে যেতে বলতাম, কিন্তু আমি ছিলাম একজন ব্রিটিশ অফিসার, যার প্রথম কাজ ছিল যেকোনো মূল্যে যুদ্ধে জেতা।”
লরেন্সের জায়োনিস্ট বা ইহুদিবাদী সংশ্লিষ্টতা ছিল তাঁর ইতিহাসের আরও একটি কালো অধ্যায়। ১৯১৭ সালে যখন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী আর্থার বালফোর ফিলিস্তিনে ইহুদিদের জন্য একটি 'জাতীয় আবাসভূমি' প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন, লরেন্স তখন পর্দার আড়ালে সেই পথকে প্রশস্ত করছিলেন। তিনি আরবের প্রভাবশালী নেতাদের বোঝাতেন যে, ফিলিস্তিনে ইহুদিদের উপস্থিতি আরবদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করবে। এটি ছিল এক বিশাল রাজনৈতিক জুয়া। লরেন্সের প্রকৃত উদ্দেশ্য ছিল ফিলিস্তিনে এমন একটি শক্তির বীজ বপন করা, যা ভবিষ্যতে আরব ও মুসলিম ঐক্যের চিরস্থায়ী কাঁটা হয়ে দাঁড়াবে। ১৯১৯ সালের প্যারিস শান্তি সম্মেলনে লরেন্স যখন ফয়সাল ও জায়োনিস্ট নেতা হাইম ওয়েইজম্যানের মধ্যে বৈঠক করিয়ে দেন, তখন থেকেই ফিলিস্তিনের ভাগ্য বিপর্যয়ের রূপরেখা চূড়ান্ত হয়। তিনি লবিং করেছিলেন যাতে ফিলিস্তিন কোনোভাবেই আরবদের একক নিয়ন্ত্রণে না থাকে, বরং ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অধীনে ইহুদি বসতি স্থাপনের অভয়ারণ্য হয়।
লরেন্সের ব্যক্তিজীবনের বিকৃতি এবং সমকামিতা নিয়ে ঐতিহাসিক মহলে যে বিতর্ক রয়েছে, তা কেবল ব্যক্তিগত কলঙ্ক নয়, বরং এটি তাঁর রাজনৈতিক নিষ্ঠুরতার সাথেও যুক্ত। অনেক গবেষক মনে করেন, লরেন্সের এই চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য তাঁকে আবেগহীন ও প্রতিশোধপরায়ণ করে তুলেছিল। তুর্কিদের হাতে বন্দি থাকাকালীন তিনি যে নির্যাতনের বর্ণনা দিয়েছেন, তা অনেক ক্ষেত্রে সত্যের চেয়ে কল্পনা, বানোয়াট ও মিথ্যাই বেশি ছিল যার উদ্দেশ্য ছিল ব্রিটিশ জনমনে তুর্কিদের প্রতি চরম ঘৃণা ছড়িয়ে দেওয়া। অনেকে মনে করেন, তাঁর এই চারিত্রিক দুর্বলতাকে ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা তাকে ব্ল্যাকমেইলের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করত।
তিনি ছিলেন মূলত একজন 'মাস্টার অব ডিসগাইস' বা ছদ্মবেশের জাদুকর। কখনো কুর্দি মুসাফির, কখনো সার্কাসিয়ান সৈন্য, আবার কখনো ধর্মপ্রাণ আলেমের লেবাস পরে তিনি মানুষের ঈমান ও দেশপ্রেমের সাথে ছিনিমিনি খেলেছেন। তিনি যে বিশাল মাপের রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছিলেন, তা কোনো সাধারণ সৈনিক বা গোয়েন্দার পক্ষে সম্ভব ছিল না। এই 'ডার্ক মিশন' সফল করার জন্য লরেন্সকে একাধারে একজন ধূর্ত মনোবিজ্ঞানী, ভাষাবিদ, এবং নিষ্ঠুর রণকৌশলী হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হয়েছিল। ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা তাঁকে একটি 'পারফেক্ট লিভিং উইপন' বা জীবন্ত অস্ত্র হিসেবে তৈরি করেছিল।
লরেন্সের প্রথম এবং প্রধান যোগ্যতা ছিল তাঁর অসাধারণ ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক দক্ষতা। তিনি কেবল আরবি ভাষা জানতেন না, বরং আরবের মরুভূমির বিভিন্ন গোত্রের উপভাষা এবং তাদের মনস্তত্ত্ব বুঝতে পারতেন। অক্সফোর্ডে পড়ার সময় থেকেই তিনি প্রত্নতত্ত্বের আড়ালে সিরিয়া, লেবানন ও ফিলিস্তিনের আনাচে-কানাচে ঘুরে বেরিয়েছেন। তিনি জানতেন কোন গোত্রকে টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব, আর কোন গোত্রকে ধর্মের দোহাই দিয়ে উসকে দেওয়া যাবে। এই যোগ্যতাকে তিনি ব্যবহার করেছিলেন 'সাংস্কৃতিক ছদ্মবেশ' ধারণের জন্য। তিনি এতটাই নিখুঁতভাবে আরবদের মতো পোশাক পরতেন এবং তাদের রীতিনীতি পালন করতেন যে, অনেক সাধারণ বেদুইন তাঁকে নিজেদেরই একজন বলে মনে করত। অথচ তাঁর এই জুব্বার নিচে লুকিয়ে ছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ষড়িযন্ত্রের বিষাক্ত ছোবল।
দ্বিতীয়ত, লরেন্সের ছিল অদ্ভুত এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক নিষ্ঠুরতা ও ধৈর্যের ক্ষমতা। তিনি মরুভূমির চরম আবহাওয়া এবং দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছিলেন যেন আরবরা তাঁকে একজন 'অতিমানব' হিসেবে দেখতে শুরু করে। তিনি জানতেন, আরবরা সাহসিকতার পূজারি; তাই তিনি নিজেই অটোম্যানদের রেললাইন বোমায় উড়িয়ে দেয়া ও সরাসরি যুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে তাদের আস্থা অর্জন করেছিলেন। কিন্তু এই সাহসিকতার পেছনে ছিল এক ঠান্ডা মাথার খুনি। লরেন্সের ডায়েরি থেকে জানা যায়, তিনি তুর্কি বন্দিদের ওপর অকথ্য নির্যাতন এবং নির্বিচারে হত্যার নির্দেশ দিতে দ্বিধা করতেন না। তাঁর এই নিষ্ঠুরতা তাঁকে একজন সফল ‘ওয়ারলর্ড’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছিল, যা দিয়ে তিনি সহজেই বিশৃঙ্খল আরব গোত্রগুলোকে একটি একক লক্ষ্যবস্তুর (অটোমান খিলাফত) দিকে চালিত করতে পেরেছিলেন।
লরেন্সের আরও একটি বড় যোগ্যতা ছিল তাঁর ধূর্ত কূটনৈতিক এবং প্রতারণামূলক জ্ঞান। তিনি অত্যন্ত উচ্চশিক্ষিত হওয়ায় জানতেন কীভাবে জটিল রাজনৈতিক মারপ্যাঁচ সাজাতে হয়। একদিকে তিনি শরিফ হুসাইনকে খিলাফতের স্বপ্ন দেখাতেন, অন্যদিকে ব্রিটিশ সরকারের কাছে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাতেন যে কীভাবে শরিফকে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দেওয়া যায়। তিনি জায়োনিস্ট নেতাদের সাথেও গভীর সখ্য গড়ে তুলেছিলেন এবং ইহুদিবাদী আন্দোলনের দর্শন আত্মস্থ করেছিলেন। তাঁর এই বহুমুখী বুদ্ধিবৃত্তিক যোগ্যতা তাঁকে 'ডাবল এজেন্ট'-এর মতো কাজ করার ক্ষমতা দিয়েছিল। তিনি একই সাথে ব্রিটিশ অফিসার, আরবদের তথাকথিত নেতা এবং জায়োনিস্টদের মিত্র হিসেবে নিজেকে মানিয়ে নিতে পেরেছিলেন।
১৯২৯ সালের তুর্কি নথিতে তাঁকে “মিরালয় লরেন্স” হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, যিনি ফিলিস্তিন ও সুদানে সাম্প্রদায়িক উসকানি দিয়ে ব্রিটিশ আধিপত্য নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্রকে রক্তাক্ত করার এক নিপুণ কারিগর। তাঁর সাজানো সেই নকশাতেই ১৯৪৮ সালে জন্ম নেয় ইসরায়েল এবং বাস্তুচ্যুত হয় লক্ষ লক্ষ ফিলিস্তিনি। তাঁর দেখানো 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' নীতির শিকার হয়ে আজ অবধি মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি এবং আরব-অনারব দ্বন্দ্ব জিইয়ে আছে।
লরেন্স অব অ্যারাবিয়া এবং মক্কার শরিফ হুসাইনের মধ্যে যে সখ্য গড়ে উঠেছিল, তা ছিল মুসলিম হয়ে অন্য মুসলিম জাতির সাথে ইতিহাসের অন্যতম জঘন্য এবং সুপরিকল্পিত বেঈমানী। ১৯১৬ সালের জুন মাসে যখন তথাকথিত ‘গ্রেট আরব রিভল্ট’ বা মহাবিপ্লব শুরু হয়, তখন লরেন্সের হাতে ছিল ব্রিটিশ সরকারের দেওয়া কায়রো থেকে পাঠানো থলে থলে স্বর্ণমুদ্রা। লরেন্সের কাজ ছিল শরিফ হুসাইন এবং তাঁর চার পুত্রকে বিশেষ করে ফয়সালকে এই বিশ্বাসে অন্ধ করে রাখা যে, অটোমান সাম্রাজ্যের পতন ঘটাতে পারলেই দামেস্ক থেকে মদিনা পর্যন্ত এক বিশাল স্বাধীন আরব সাম্রাজ্য গঠিত হবে এবং শরিফ হুসাইন হবেন তার খলিফা। কিন্তু লরেন্স তাঁর ডায়েরিতে এবং ব্রিটিশ দপ্তরে পাঠানো রিপোর্টে হাস্যোচ্ছ্বাসে লিখেছিলেন যে,
“এই বিপ্লব আরবদের মুক্তির জন্য নয়, বরং তুর্কি সেনাদের ব্যতিব্যস্ত রেখে ইউরোপীয় ফ্রন্টে ব্রিটিশদের চাপ কমানোর একটি ‘সস্তা কৌশল’ মাত্র।”
যুদ্ধের ময়দানে লরেন্সের বিশ্বাসঘাতকতা শুরু হয় সামরিক কৌশলের নামে অটোমান অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে। তিনি আরবদের শিখিয়েছিলেন কীভাবে হেজাজ রেলওয়ে ধ্বংস করতে হয়। এই রেলওয়ে ছিল মুসলিম বিশ্বের অন্যতম পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, যা হাজিদের যাতায়াত সহজ করত এবং খিলাফতের কেন্দ্রকে পবিত্র ভূমির সাথে যুক্ত রাখত। লরেন্স জানতেন, রেললাইন ধ্বংস করলে মদিনা অবরুদ্ধ হয়ে পড়বে এবং অটোমানরা রসদ পাবে না। কিন্তু এর সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য ছিল আরবদের সাথে অটোমানদের যোগাযোগের শেষ সুতোটুকুও ছিঁড়ে ফেলা। লরেন্স যখন আরব বেদুইনদের ডিনামাইট দিয়ে ট্রেন ওড়ানো শেখাতেন, তখন তিনি আসলে খিলাফতের মেরুদণ্ড ভাঙার উৎসবে মেতেছিলেন।
তিনি তাঁর বই 'সেভেন পিলার্স অব উইজডম'-এ এই ধ্বংসযজ্ঞের কথা উল্লেখ করে নির্লজ্জের মতো লিখেছিলেন:
“আমাদের কাছে বিদ্রোহের অর্থ ছিল একটি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, কোনো গঠনমূলক বিজয় নয়। আমি চেয়েছিলাম আরবরা লড়াই করুক কেবল ধ্বংসের জন্য, আর সেই ধ্বংসস্তূপের ওপর ব্রিটিশ পতাকা উড়বে আমাদেরই ইশারায়।”
সবচেয়ে বড় জালিয়াতি ঘটেছিল ১৯১৭ সালের ‘আকাবা’ বিজয়ের সময়। লরেন্স প্রচার করেছিলেন যে, এটি একটি আরব বিজয়। কিন্তু পর্দার আড়ালে তিনি ব্রিটিশ যুদ্ধজাহাজের গোলন্দাজ বাহিনী এবং ব্রিটিশ অর্থের সাহায্য নিয়ে এই বন্দরটি দখল করেন কেবল ফিলিস্তিনের দিকে ব্রিটিশ জেনারেল অ্যালেনবির অগ্রযাত্রার পথ সুগম করতে। লরেন্স যখন দামেস্কে প্রবেশ করেন, তখন তিনি জানতেন যে লন্ডন এবং প্যারিসের বদ্ধ ঘরে বসে মার্ক সাইকস এবং ফ্রাঁসোয়া জর্জ-পিকোট ইতোমধ্যেই আরব ভূমিকে ভাগাভাগি করে নিয়েছেন (সাইকস-পিকোট চুক্তি)। লরেন্স এই সত্যটি আরবদের কাছে গোপন রেখেছিলেন এবং তাদের দিয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ করিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি ফয়সালকে মিথ্যে আশ্বাস দিচ্ছিলেন যখন ব্রিটিশ সৈন্যরা জেরুজালেম দখল করে নিচ্ছিল যে জেরুজালেমকে জেনারেল অ্যালেনবি তখন ‘ক্রুসেডের চূড়ান্ত বিজয়’ হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন। লরেন্সের এই দ্বিচারিতা কেবল রাজনৈতিক ছিল না, তা ছিল আধ্যাত্মিক এবং আদর্শিক আক্রমণের অংশ। তিনি জানতেন মক্কা ও মদিনার শরিফ যখন সুলতানের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরবেন, তখন সাধারণ মুসলমানদের মনে খিলাফতের প্রতি আনুগত্য নড়বড়ে হয়ে যাবে। তিনি আরবদের মনে এই বিষ গেঁথে দিয়েছিলেন যে, ‘তুর্কিরা অনারব, তাই তাদের আনুগত্য করা পাপ’। অথচ লরেন্স নিজে ছিলেন একজন কট্টর ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী এবং জায়োনিস্টদের মদদদাতা।
বইয়ে তাঁর নিজের কলমেই সেই ষড়যন্ত্রের দম্ভ ফুটে উঠেছে এভাবে:
“আমি তাদের প্রতিটি গোত্রকে কিনেছিলাম স্বর্ণ দিয়ে, প্রতিটি নেতার কানে দিয়েছিলাম মিথ্যে মরীচিকার গান। তারা ভেবেছিল তারা গড়ছে এক স্বাধীন স্বদেশ, আমি জানতাম তারা কেবল ব্রিটিশ মানচিত্রে আঁকছে এক নতুন রক্তরেখা। মদিনার রেললাইন থেকে দামেস্কের প্রাসাদ সবই ছিল আমার দাবার চাল, আমি ছিলাম সেই শিকারি, যে হরিণকে শিখিয়েছি বাঘের বিরুদ্ধে লড়তে, যেন আমিই বনের রাজা হতে পারি।”
মক্কার শরিফ হুসাইন যখন ১৯২৪ সালে বুঝতে পারেন যে লরেন্স এবং ব্রিটিশরা তাকে ব্যবহার করে ছুড়ে ফেলে দিয়েছে, তখন অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল। তাঁকে সাইপ্রাসে নির্বাসনে পাঠানো হয় এবং আরব ভূমিকে ছোট ছোট টুকরো করে ব্রিটিশ ও ফরাসি ম্যান্ডেটের অধীনে নেওয়া হয়। লরেন্সের এই জালিয়াতির সরাসরি ফসল ছিল ফিলিস্তিনের পতন এবং ইসরায়েল রাষ্ট্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। লরেন্স আরবদের হাতে তলোয়ার দিয়েছিলেন ঠিকই, কিন্তু সেই তলোয়ারের লক্ষ্যবস্তু তিনি নিজেই স্থির করে দিয়েছিলেন যাতে শেষ পর্যন্ত মুসলমানরাই মুসলমানদের ধ্বংস করে।
লরেন্স অব অ্যারাবিয়া এবং নজদ অঞ্চলের ওয়াহাবী মতাদর্শী ইবনে সাউদের উত্থানের ইতিহাসটি অত্যন্ত গভীর এবং এটি ব্রিটিশদের 'ডাবল গেম' বা দ্বিমুখী নীতির এক চূড়ান্ত নিদর্শন। লরেন্স যখন হেজাজে শরিফ হুসাইনের সাথে তুর্কিদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ছক আঁকছিলেন, ঠিক সেই সময়েই ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার অন্য একটি অংশ নজদের ইবনে সাউদের সাথে সখ্য গড়ে তুলছিল। যদিও লরেন্সের মূল লক্ষ্য ছিল মক্কার হাশেমী বংশকে ব্যবহার করে অটোমান খিলাফতকে ভেতর থেকে ভেঙ্গে দেওয়া। কিন্তু তিনি জানতেন, যদি হাশেমীরা বেশি শক্তিশালী হয়ে যায়, তবে তারা ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই ব্রিটিশরা অত্যন্ত সুকৌশলে আরবের মরুভূমিতে এক রক্তক্ষয়ী ভ্রাতৃঘাতী দাঙ্গা ও ইসলামী আদর্শিক বিভাজনের বীজ বপন করেছিল।
লরেন্সের কৌশল ছিল শরিফ হুসাইনকে দিয়ে 'আরব জাতীয়তাবাদ' প্রচার করা, যা অটোমানদের ধর্মীয় আবেদনকে ম্লান করে দেবে। অন্যদিকে, সেন্ট জন ফিলবি (St John Philby) যিনি লরেন্সেরই সহকর্মী এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা ছিলেন তিনি ইবনে সাউদের ওয়াহাবী বাহিনীকে উসকে দিচ্ছিলেন। লরেন্স তাঁর নথিপত্রে স্বীকার করেছেন যে, আরবদের মধ্যে এই অভ্যন্তরীণ ধর্মীয় ও গোত্রীয় বিভাজন ব্রিটিশদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ ছিল। তিনি জানতেন, ওয়াহাবী মতাদর্শের সাথে শরিফ হুসাইনের সুফি ঘরানার দ্বন্দ্বকে কাজে লাগিয়ে আরবের পবিত্র ভূমিগুলোতে এমন এক অস্থিরতা তৈরি করা সম্ভব, যা কয়েক দশক পর্যন্ত বজায় থাকবে। লরেন্সের গোপন পরিকল্পনা ছিল খিলাফতের পতনের পর আরবদের এমনভাবে বিভক্ত রাখা যাতে তারা কোনোদিন একতাবদ্ধ হয়ে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে না পারে।
১৯২৪ সালের দিকে লরেন্সের প্ররোচনায় শুরু হওয়া সেই বিদ্রোহের চূড়ান্ত পরিণতি দেখা যায় যখন ইবনে সাউদের বাহিনী ব্রিটিশদের পরোক্ষ সমর্থনে হেজাজ আক্রমণ করে। লরেন্স এবং তাঁর ব্রিটিশ কর্তারা শরিফ হুসাইনকে দেওয়া সমস্ত প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে তাঁকে মাঝপথে পরিত্যাগ করেন। শরিফ হুসাইন যখন ব্রিটিশদের বিশ্বাসঘাতকতা বুঝতে পারেন, তখন লরেন্সের সাজানো সেই নীল নকশা অনুযায়ী ওয়াহাবী বাহিনী মক্কা ও মদিনা দখল করে নেয়। লরেন্সের এই 'ডার্ক হিস্ট্রি'র সবচেয়ে ভয়াবহ দিক হলো, তিনি জানতেন যে এই পরিবর্তনের ফলে আরবের প্রাচীন স্থাপত্য এবং মুসলিম ঐতিহ্যের ব্যাপক ধ্বংসসাধন হবে, তবুও ব্রিটিশ ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে তিনি একে ত্বরান্বিত করেছিলেন।
লরেন্সের নিজের ভাষায় এই ষড়যন্ত্রের রূপরেখা ছিল এমন:
“আমরা আরবে এমন এক আগুনের শিখা জ্বালিয়েছি যা নেভানো অসম্ভব। এক ভাই লড়বে অন্য ভাইয়ের সাথে ধর্মের নতুন ব্যাখায়, আর আমরা বসে হাসবো ভূমধ্যসাগরের ওপারে ইউরোপের সীমানায়। শরিফ হোক বা সাউদ, কেউই আমাদের বন্ধু নয়, তারা কেবল দাবার গুঁটি, আমাদের স্বার্থেই তারা এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্ম কাজ করে যাবে চিরকাল।”
লরেন্সের বই 'সেভেন পিলার্স অব উইজডম'-এ তিনি অত্যন্ত গর্বের সাথে বর্ণনা করেছেন কীভাবে তিনি মরুভূমির বিভিন্ন গোত্রকে পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়িয়ে দিয়েছিলেন। তিনি লিখেছিলেন যে, আরবের যাযাবরদের ঐক্যবদ্ধ করা যতটা কঠিন, তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা ততটাই সহজ। লরেন্সের এই গোয়েন্দা তৎপরতার ফলেই শেষ পর্যন্ত অটোমান খিলাফতের অবসান ঘটে এবং আরব বিশ্ব ভৌগোলিক ও আদর্শিকভাবে খণ্ডবিখণ্ড হয়ে পড়ে। লরেন্সের আসল উত্তরাধিকার হলো আজকের মধ্যপ্রাচ্যের সেই কৃত্রিম রাষ্ট্রগুলো এবং ধর্মীয় চরমপন্থা, যা ব্রিটিশদের 'ডিভাইড অ্যান্ড রুল' নীতির ফসল।
লরেন্স অব অ্যারাবিয়া এবং ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থা আরবের মরুভূমিতে যে বিভেদের চারা রোপণ করেছিল, তার সবচেয়ে বিষাক্ত ফলটি ফলেছিল মক্কা ও মদিনার পবিত্র মাটিতে। লরেন্সের প্ররোচনায় শুরু হওয়া তথাকথিত 'আরব বিদ্রোহ' কেবল রাজনৈতিক পতনই আনেনি, বরং এটি ছিল ইসলামের ঐতিহ্য ও স্থাপত্যের ওপর এক ভয়াবহ আঘাত। ১৯২৪ সালে যখন ব্রিটিশদের সবুজ সংকেত পেয়ে নজদ থেকে ইবনে সাউদের ওয়াহাবী বাহিনী হেজাজ আক্রমণ করে, তখন তাদের আদর্শিক উগ্রতা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে টিকে থাকা মুসলিম স্থাপত্য ও নিদর্শনগুলোকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়। জান্নাতুল বাকি এবং জান্নাতুল মুয়াল্লার মতো পবিত্র কবরস্থানগুলোতে থাকা সাহাবায়ে কেরাম, আহলে বাইত এবং উম্মাহাতুল মুমিনিনদের কবরস্থানগুলোকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। লরেন্স এবং তাঁর ব্রিটিশ কর্তারা এই ধ্বংসযজ্ঞে নীরব সায় দিয়েছিলেন, কারণ তাঁরা জানতেন যে ঐতিহ্যের শেকড় ছিঁড়ে ফেলতে পারলে একটি জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হয়।
ওয়াহাবী এজেন্ডা এবং সাউদ বংশের আধিপত্য ছিল মূলত একটি ব্রিটিশ প্রজেক্টের চূড়ান্ত রূপ। লরেন্স যখন হেজাজের শরিফ হুসাইনকে ব্যবহার করে অটোমানদের হটিয়ে দিলেন, তখন ব্রিটিশরা শরিফ হুসাইনকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে ইবনে সাউদকে ক্ষমতায় বসানোর পথ প্রশস্ত করে। এর মূল কারণ ছিল মোনাফেকি ব্রিটিশরা জানত শরিফ হুসাইন তবুও কিছুটা স্বাধীনচেতা হতে পারেন, কিন্তু ইবনে সাউদ ও তাঁর অনুসারীদের আদর্শিক কাঠামোর মাধ্যমে আরবে এমন এক শাসন কায়েম করা সম্ভব হবে যা কেবল ব্রিটিশ স্বার্থই রক্ষা করবে না, বরং মুসলিম উম্মাহকে ধর্মীয়ভাবেও কয়েক ভাগে বিভক্ত করে রাখবে। এই মোনাফেকির চরম নিদর্শন হলো, যখন ফিলিস্তিনে জায়োনিস্টরা শিকড় গাড়ছিল, তখন আরবের এই নতুন শাসকেরা ব্রিটিশদের সাথে তেল ও ক্ষমতার চুক্তিতে মগ্ন ছিল। লরেন্সের ডার্ক ইতিহাস এটাই সাক্ষ্য দেয় যে, খিলাফতের পতনের পর উম্মাহর নেতৃত্ব এমন এক গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল যারা প্রকাশ্যে ইসলামের কথা বললেও ভেতরে ছিল পশ্চিমা ও জায়োনিস্ট স্বার্থের পাহারাদার।
মুসলিম উম্মাহর সাথে এই দীর্ঘস্থায়ী মোনাফেকির মাসুল আজও প্রতিটি মুসলিম জনপদকে দিতে হচ্ছে। লরেন্সের তৈরি করা কৃত্রিম সীমানা বা ‘নেশন স্টেট’ ধারণা মুসলিম দেশগুলোকে এমনভাবে দুর্বল করে রেখেছে যে, আজ ফিলিস্তিনে যখন গণহত্যা চলে কিংবা কাশ্মীরে যখন রক্ত ঝরে, তখন ‘সৌদি আরব’ বা অন্যান্য আরব রাষ্ট্রগুলো কেবল নামমাত্র নিন্দা জানিয়ে ক্ষান্ত থাকে। এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং এটি লরেন্সের সেই সুদূরপ্রসারী ‘ডিভাইড অ্যান্ড রুল’ কৌশলেরই অংশ। মুসলিমদের ঐক্য ধ্বংস করার জন্য লরেন্স যে ষড়যন্ত্র করেছিলেন, তার ফলেই আজ উম্মাহর বিশাল সম্পদ থাকা সত্ত্বেও তারা নির্যাতিত, কারণ তাদের নেতৃত্বে বসে আছে লরেন্সেরই উত্তরসূরিরা যারা নিজেদের সিংহাসন রক্ষা করতে জায়োনিস্ট ও সাম্রাজ্যবাদীদের পা চাটতে দ্বিধা করে না।
ইতিহাসের এই দীর্ঘ অন্ধকার পথ পরিক্রমায় লরেন্স অব অ্যারাবিয়া কেবল একজন ব্যক্তি নন, তিনি একটি ব্যবস্থার নাম। যে ব্যবস্থা জায়োনিজমকে আজও সুরক্ষা দেয়, যে ব্যবস্থা আজও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য হতে দেয় না এবং যে ব্যবস্থা আমাদের পবিত্র ভূমিগুলোকে কুক্ষিগত করে রেখেছে। তাদের তৈরিকৃত ব্যবস্থা বা সিস্টেম আজও নিরলসভাবে চলমান, বরং ওটা আগের চেয়েও Evolve হয়ে শক্তিশালীভাবে আমাদের পুরো পৃথিবীকে ম্যাট্রিক্স সিস্টেমে আবদ্ধ করে রেখেছে। তার এই “ডার্ক হিস্ট্রি” আমাদের এটাই মনে করিয়ে দেয় যে, যতক্ষণ পর্যন্ত উম্মাহ নিজেদের ভেতরের মোনাফেকি, ধর্মীয় রীতিনীতির মতপার্থক্যের জেরে একে অপরের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ ও কাঁদাছোরাছুরি এবং ব্রিটিশ-প্রদত্ত বিভাজনের সীমানাগুলো চিনে নিতে না পারবে, ততক্ষণ এই নির্যাতনের শৃঙ্খল ভাঙা কখনই সম্ভব হবে না।
তথ্যসূত্র ও গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স:
Lawrence, T. E. (1922). Seven Pillars of Wisdom. (লরেন্সের নিজস্ব জবানবন্দি, তার ষড়যন্ত্রের স্বীকারোক্তি, বিদ্রোহের সময় জালিয়াতি, ডিনামাইট ব্যবহারের বর্ণনা, গোত্রীয় বিভাজন ও ব্রিটিশ কৌশলের স্বীকারোক্তি।)
Jeremy Wilson (1989). Lawrence of Arabia: The Authorized Biography. (লরেন্সের ব্যক্তিজীবন ও সামরিক মিশন)।
James Barr (2011). A Line in the Sand: Britain, France and the Struggle that Shaped the Middle East. (সাইকস-পিকোট চুক্তি ও ব্রিটিশ-ফরাসি চক্রান্তের দলিল, মধ্যপ্রাচ্যের বিভাজন ও ফিলিস্তিন ট্র্যাজেডির নেপথ্য কাহিনী)।
Asher, M. (1998). Lawrence: The Uncrowned King of Arabia. (আরব বিশ্বের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিবর্তনের পটভূমি)।
Al-Rasheed, M. (2010). A History of Saudi Arabia (2nd Ed). (সাউদ বংশের উত্থান ও ব্রিটিশ সম্পর্কের সবিস্তার ইতিহাস)।
Philby, H. St J. B. (1948). Arabian Days. (ইবনে সাউদের সাথে ব্রিটিশ গোয়েন্দাদের সম্পর্ক এবং লরেন্সের সমসাময়িক রাজনীতির বিবরণ)।
Fromkin, D. (1989). A Peace to End All Peace. (লরেন্স ও ফিলবির মাধ্যমে ব্রিটিশদের আরবে প্রভাব বিস্তারের পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, ব্রিটিশদের গোপন চুক্তি ও শরিফ হুসাইনকে ধোঁকা দেওয়ার ঐতিহাসিক বিবরণ)।
Scott Anderson (2013). Lawrence in Arabia: War, Deceit, Imperial Folly. (লরেন্সের জায়োনিস্ট সংযোগ ও ফিলিস্তিন নীতির বিশ্লেষণ)।
Turkish National Archive (MIT). Document dated 23.09.1929, Ref: 712/9/ASH. (লরেন্সের ছদ্মবেশ ও গোয়েন্দা তৎপরতা বিষয়ক তুর্কি নথি)।
Mack, J. E. (1976). A Prince of Our Disorder: The Life of T.E. Lawrence. (তাঁর মনস্তাত্ত্বিক যোগ্যতা ও মানসিক জটিলতার বিশ্লেষণ)।
Wilson, J. (1989). Lawrence of Arabia: The Authorized Biography. (তাঁর ভাষাগত ও কৌশলগত প্রশিক্ষণের বিবরণ)।
Anderson, S. (2013). Lawrence in Arabia. (মরুভূমিতে তাঁর গোয়েন্দা ও সামরিক দক্ষতা অর্জনের পটভূমি)।
Suleiman Mousa (1966). T.E. Lawrence: An Arab View. (আরব দৃষ্টিকোণ থেকে লরেন্সের বিশ্বাসঘাতকতার প্রামাণ্য দলিল)।
UK National Archives, FO 882 Series (Arab Bureau Papers). (লরেন্সের পাঠানো গোপন রিপোর্টসমূহ যা তাঁর প্রকৃত উদ্দেশ্য প্রকাশ করে)।
Writer: Imran Hussein Khan
Post Link: https://www.facebook.com/share/p/19Gty1f3UN
No comments:
Post a Comment